চীনা নাগরিককের ‘চুক্তিভিত্তিক বিয়ে’ নিয়ে তোলপাড় 

  • নীলফামারী প্রতিনিধি | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: জুন ২২, ২০২৬, ০৩:১৫ পিএম
চীনা নাগরিককের ‘চুক্তিভিত্তিক বিয়ে’ নিয়ে তোলপাড় 

ছবি : প্রতিনিধি

নীলফামারী: নীলফামারীর উত্তরা ইপিজেডে কর্মরত এক চীনা নাগরিকের সঙ্গে স্থানীয় এক তরুণীর বিয়ে নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে তিন বছরের চুক্তিতে বিয়ে হয়েছে বলে বিভিন্ন মহলে দাবি উঠলেও এ ধরনের অভিযোগের কোনো সত্যতা এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি বলে জানায় পুলিশ।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, নীলফামারী সদর উপজেলার সংগলশী এলাকার বাসিন্দা জুয়েল হোসেনের মেয়ে মাইশা আক্তার জুইয়ের সঙ্গে উত্তরা ইপিজেডে কর্মরত চীনা নাগরিক লিয়াউ জিচুনের পরিচয় হয় কর্মসূত্রে। পরিচয়ের একপর্যায়ে তাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে দুই পরিবারের সম্মতিতে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

জানা যায়, গত ১০ জুন আদালতে হলফনামার মাধ্যমে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন লিয়াউ জিচুন। ধর্মান্তরের পর তার নাম রাখা হয় ‘নুর মোহাম্মদ’। পরবর্তীতে ৩ লাখ ২৫১ টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করে এবং নগদ ৫ হাজার টাকা পরিশোধের মাধ্যমে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়। ১৮ জুন পারিবারিক আয়োজনে বিয়ের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিয়ের বিদায় অনুষ্ঠানের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে কনেকে আবেগাপ্লুত অবস্থায় কাঁদতে দেখা যাওয়ায় বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য শুরু হয়। একপর্যায়ে কিছু ফেসবুক ব্যবহারকারী দাবি করেন, এটি ভালোবাসার বিয়ে নয়; বরং অর্থের বিনিময়ে নির্দিষ্ট মেয়াদের একটি চুক্তিভিত্তিক বিয়ে।

তবে এসব দাবির বিপরীতে স্থানীয় অনেকেই বিয়েটিকে স্বাভাবিক ও পারিবারিক বিয়ে হিসেবে উল্লেখ করেছেন। স্থানীয় যুবক লিটন বলেন, “তারা দুজন ভালোবেসেই বিয়ে করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেসব কথা বলা হচ্ছে, তার অনেক কিছুই বাস্তবতার সঙ্গে মিল নেই।”

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন মন্তব্যে এ বিয়ে নিয়ে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়াও দেখা গেছে। তবে স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, কোনো ঘটনার সত্যতা যাচাই না করে মন্তব্য করা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। বিদেশি নাগরিকের সঙ্গে বিয়ের ক্ষেত্রে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই হওয়া প্রয়োজন।

এ বিষয়ে কনের পরিবারের সদস্য ছলেমান হোসেন বলেন, “ফোনে এ বিষয়ে কিছু বলতে চাই না।”

নীলফামারী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান জানান, “এ ঘটনায় থানায় কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। আমরা জেনেছি, আদালতের হলফনামার মাধ্যমে আইনগতভাবে বিয়েটি সম্পন্ন হয়েছে। ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে তিন বছরের চুক্তিতে বিয়ের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে, সে বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো তথ্য বা প্রমাণ নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

পিএস

Link copied!